মাস্ক না পরলে সরকারি সেবায় ‘না’

admin
অক্টোবর ২৩, ২০২০ ১:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাস্ক না পারলে সরকারি কোনো অফিস-আদালতে সেবা পাওয়া যাবে না। এমন একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সরকার প্রধান অনুমোদন দিলেই আদেশ জারি হবে।মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর হতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দেয়ার পর এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নবনির্মিত কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব জোন-২-এর উদ্বোধনের সময় তাদরে উদ্যোগের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাতে বলেন।মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে গত ২১ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মেডিকেল শিক্ষা বিভাগ। আদেশ অমান্য করায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বিপুল সংখ্যক মানুষকে জরিমানাও করে।সংক্রমণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী মাস্ক না পরে বা অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বাইরে চলাচল করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।অবশ্য গত ১৩ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক ঘোষণায় এই আইন সতর্কতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে বলা জেলা প্রশাসক ও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বলা হয়।করোনা মহামারীর মধ্যেও সরকার সাধারণ ছুটি বাতিল করে অর্থনীতি সচল করার চেষ্টা করছে। মানুষ বাইরে আসলেও ধারাবাহিকভাবে কমে এসেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দুই মাস আগে যত মানুষের পরীক্ষা করা হতো তার মধ্যে ২২ থেকে ২৩ শতাংশ শনাক্ত হলেও এখন তা ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।এই পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্বসহ যেসব স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো মানতে মানুষের মধ্যে অনীহা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঘরের বাইরে এসেও মাস্ক পড়ছে না বহু মানুষ।তবে আগামী শীত মৌসুম নিয়ে শঙ্কিত প্রধানমন্ত্রী। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছেন তিনি।করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ দেখা গেছে ইউরোপেও। আক্রান্ত ও মৃত্যু কমে আসায় লকডাউন তুলে দেয়া বিভিন্ন দেশ আবারও একই পথে হাঁটছে। এই প্রেক্ষিতে সরকার আবার এ বিষয়ে কড়াকড়ি করতে যাচ্ছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাস্ক না পরলে মিলবে না কোনো সরকারি সেবা এমন নির্দেশনা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।’‘প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেই হাসপাতাল-ক্লিনিকের ব্যানার, থানা-আদালত, জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের সব জায়গায় লেখা থাকবে— আপনারা যদি সেবা পেতে চান, মাস্ক পরে আসতে হবে’- বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।মন্ত্রী জানান, ‘মাস্ক না পরলে সেবা নয়— এমন নির্দেশনা রাজধানীসহ উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে টাঙানো থাকবে।মন্ত্রী বলেন, ‘সামনে যে সেকেন্ড ওয়েভের কথা বলা হচ্ছে, আশা করি বাংলাদেশ সেভাবে আক্রান্ত হবে না। কিন্তু আমাদের সজাগ হতে হবে। আমাদের কাজ করতে হবে। নতুন নতুন চিন্তা করতে হবে। তবেই আমরা ইনশাল্লাহ ভালো থাকব।’নভেম্বরেই জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বর্ধিত অংশে চিকিৎসাসেবা চালু করা যাবে বলেও জানান মন্ত্রী। এ হাসপাতালে আগে ৪১৪ শয্যা ছিল। বর্ধিত অংশের কাজ শেষ হলে তা এক হাজার ২৫০ শয্যায় উন্নীত হবে।