খুনি ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র থেকে সাবধান থাকতে হবে

admin
নভেম্বর ৫, ২০২০ ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চক্রান্তের বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী, খুনিচক্র ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বসে নেই। তাদের থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে

হবে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে গঠিত রাজনৈতিক দল কখনোই দেশ ও জাতির কল্যাণ করতে পারে না। ক্ষমতাকে তারা নিজেদের ভাগ্য গড়ার কাজে ব্যবহার করে, জনগণ কিছু পায় না। ১৫আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের মতো ইতিহাসের জঘন্যতম ঘটনা ঘটিয়েও তারা ক্ষমতা ভোগ করতে পারেনি জনগণের কারণে। এটিই তাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রক্তাক্ত-শোকাবহ ৩ নভেম্বর জেল হত্যাদিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগই দেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল যেটি দেশের মাটি ও মানুষের মধ্যে থেকে দেশের মাটিতে জন্ম নিয়েছে, তাই আওয়ামী লীগের শিকড় অনেক গভীরে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেইদেশ উন্নতি হয়, দেশের মানুষের কল্যাণ হয়, বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলতে পারে- আমরা তা প্রমাণ করেছি।

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনাসভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুসন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় দল, সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গণভবন প্রান্ত থেকে সভাটিপরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারোর দয়া বা দাক্ষিণ্যে নয়, আওয়ামী লীগ জনগণের সমর্থন নিয়েই চার চারবার ক্ষমতায় থেকে দেশের সেবা করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগজনগণের কল্যাণে ও দেশের উন্নয়নে কাজ করে বলেই ক্ষমতায় টিকে আছে। যারা ক্ষমতায় থেকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি ও মানুষ হত্যা করে, দেশের কল্যাণ করতে পারে না, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর হাতে যে দলেরজন্ম- তাদের (বিএনপি) কেন দেশের জনগণ ভোট দেবে?১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর হত্যাকা-ের সঙ্গে খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমান জড়িত উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি মোশতাক অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেই প্রথমে জিয়াউর

রহমানকে সেনাপ্রধান করে। এতেই স্পষ্ট হয়, এই ষড়যন্ত্রে খুনি মোশতাকের ডানহাত ছিল এই জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জিয়া জড়িত না থাকলে লন্ডনের টমাস উইলিয়াম এমপির নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত

কমিটিকে বাংলাদেশে আসতে দেয়নি কেন? তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও বঙ্গবন্ধুর খুনিকে প্রহসনের নির্বাচনে বিজয়ী করে সংসদে বসিয়েছিল। আর এরশাদও খুনি ফারুককে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছিল।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটাকে গড়ে তুলেছিলেন। তখনি কিন্তু আঘাত আসে। কাজেই ১৫ আগস্টের ঘটনাকে যারা একসময় শুধু একটা পারিবারিক ঘটনা হিসাবে

অপপ্রচার চালাতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাদের আসল উদ্দেশ্যটা ধরা পড়ে যায় ৩ নভেম্বরের হত্যাকা-ে। যেটা শুধু পারিবারিক হত্যাকা- ছিল না। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যারা মানতে পারে নাই, স্বাধীন বাংলাদেশকে

যারা স্বীকার করতে পারে নাই, স্বাধীন বাংলাদেশটাই যারা চায় নাই- তাদের দোসররাই ছিল এই হত্যাকা-ের মূল হোতা। এটা যে একটা রাজনৈতিক চক্রান্ত। স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে চক্রান্ত-

সেটাই প্রমাণ হয়।

বিএনপির উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, যারা অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করে, যারা সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করে, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে- তাদের শুধু এটাই বলব যে, তারা কি ৩ নভেম্বরের ঘটনা একবার

কোনোদিন ভেবে দেখেছেন? তারা কি এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সেটা একবার চিন্তা করেছেন? জেলখানার মতো একটা সুরক্ষিত জায়গায় খুনিদের প্রবেশ করার অনুমতি কে দিয়েছিল? তাদের বিবেক তো সেখানে নাড়া

দেয় না। তাদের বিবেক তো কথা বলে না। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে যে নেতারা দিনরাত পরিশ্রম করে যুদ্ধ পরিচালনা করে দেশকে বিজয়ী করল, তাদের কারাগারের মধ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। আর জাতির পিতাকে তো

সপরিবারে, আমার দশ বছরের শিশু ভাইটিকেও ছাড়েনি। যেন বঙ্গবন্ধুর রক্তের কেউ যেন বেঁচে না থাকে। এদের প্রত্যেকের একটাই লক্ষ্য ছিল, ১৫ আগস্টের যে ঘটনা- এটা শুধু একটা পরিবারকে হত্যা নয়, একটা

আদর্শকে হত্যা, দেশকে হত্যা।